খবরবাংলা ডেস্ক :
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানানো হলেও এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন সপ্তাহ।
তবে এবার অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ শনিবার নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ দুপুরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ৩১ আগস্ট সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এসে তা প্রকাশের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
নতুন পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মূল প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক পাঁচ থেকে সাতটি বাস্তবায়ন আদেশ জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক আদেশ থাকবে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যারেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ চলছে। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় বেতন পুনর্নির্ধারণ ও নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অবসরে যাওয়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য এবং পেনশনের স্তর সমন্বয়ের কাজও চলছে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত দাঁড়াবে ১ অনুপাত ১ দশমিক ৭৮।
মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারি ব্যয়ভার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর ফলে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











