খবরবাংলা ডেস্ক :
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন। গত পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শোকজ, পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল এবং এমপিও বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষার মান নিয়ে ব্যাখ্যা চাইবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫-তে। ২০২৫ সালে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে হয় ২০২। সর্বশেষ ২০২৬ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩-তে। অর্থাৎ টানা চার বছর ধরে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের শিক্ষা বোর্ডে ডেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলবেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ সময় গত পাঁচ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফলের পরিসংখ্যান চাওয়া হবে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে শোকজ করা হবে। একই সময়ে দুবার এমন ঘটনা ঘটলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। আর তিনবার ঘটলে বন্ধ করা হবে প্রতিষ্ঠানের এমপিও।
তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করা হবে না বলে জানান তিনি। তাঁদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির সুপারিশ করা হবে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ সংখ্যা ৫৫ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৭। সব মিলিয়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯৩।
বোর্ডভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১০২ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪৯টি এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











