গোপালপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বাকি খাওয়া নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে নলিনবাজার এলাকায় একটি দোকানে বাকি নেওয়াকে কেন্দ্র করে গুলপেচা গ্রামের টগর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে গুলপেচা গ্রামের কয়েকজন দোকানদারকে মারধর করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা গুলপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে অসংখ্য ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি বাড়ি লুট করা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালপুর, ভূঞাপুর ও হেমনগর থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।











