ঘাটাইল সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে প্রায় ১০০ বিঘা জমির বোরো ধান ও খড়। উপজেলার সিংগুড়িয়া গ্রামে ‘সিয়াম ব্রিকস’ নামক ইটভাটার নির্গত গ্যাসে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বর্গা চাষিরা। সোনালী স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্বপ্নের ধান এখন ছাই সরেজমিনে দেখা যায়, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সিংগুড়িয়া গ্রামের বোরো ক্ষেতের পর ক্ষেত ধানের শীষ সাদা হয়ে শুকিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে সিয়াম ইটভাটা থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছাড়া হয়। এর প্রভাবে মুহূর্তেই ধানের শীষ ও খড় পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহ পরেই এসব ধান কাটার কথা ছিল। কৃষকদের দাবি, এই ঘটনায় তাদের অন্তত অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
আইন লঙ্ঘন ও কৃষকদের ক্ষোভ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, লিয়াকত তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির কাছে ইটভাটা নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে চারটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। তারা বলেন, “ঋণ করে চাষ করেছি, এখন সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই। আমরা এই ক্ষতির বিচার ও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।”
বিশেষজ্ঞের মত ও কৃষি অফিসের বক্তব্য মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, অপরিকল্পিত ইটভাটার কারণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়ে পরিবেশ ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করছে। প্রভাবশালী মালিকদের কারণে প্রান্তিক কৃষকরা বরাবরই বিচারহীনতায় ভোগেন।
ঘাটাইল উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরব ইটভাটা কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে সিয়াম ইটভাটার মালিক শহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।











