টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
টানা শীতের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইল জেলা। কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ।
উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মতো টাঙ্গাইলেও জেঁকে বসা শীতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ ও খেটে খাওয়া মানুষ। ঠান্ডাজনিত কারণে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতকালীন রোগব্যাধির প্রকোপ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীতে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পরই রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, হাঁপানি, জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ ও জ্বর। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও বয়স্করা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
সরকারি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৪৩ জন রোগী ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন শীতকালীন রোগে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ১০ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের সংখ্যাই বেশি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতকালীন রোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চলতি মৌসুমে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, একক রোগ হিসেবে ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। এবছর শীত দীর্ঘ হওয়ায় রোগীর চাপ কমছে না।
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতার পরিবর্তন ও ধুলাবালির কারণে ভাইরাসজনিত রোগ দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুদের ডায়রিয়া বাড়ছে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞরা শীতকালীন রোগ থেকে রক্ষা পেতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
✔ ধুলাবালি এড়িয়ে চলা ও প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার
✔ বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করা
✔ শিশু ও বৃদ্ধদের উষ্ণ পোশাক পরানো
✔ ঠান্ডা লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
চিকিৎসকদের ধারণা, মার্চে তাপমাত্রা বাড়লে শীতকালীন রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।











