টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের আবহাওয়া ক্রমেই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। শীত ও গরমের স্থায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যও বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার ফলে তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। কুয়াশাচ্ছন্ন কনকনে ঠান্ডা বাতাসে ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা থাকলেও টাঙ্গাইল জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারগুলোতে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষরা।
বিশেষ করে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসরত প্রায় এক লাখের বেশি নিম্নআয়ের মানুষ তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের শীত মোকাবেলার প্রস্তুতি খুবই সীমিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শীতের পাশাপাশি চরাঞ্চলে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড এলার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত চার দিনে বহু মানুষ শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল রতন জানান, শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি শিশুদের গরম কাপড় পরানো এবং সকাল ও সন্ধ্যার পর বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।
চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। নদীতে মাছ ধরা, কৃষিকাজ ও দিনমজুরিই তাদের প্রধান জীবিকা। তীব্র শীতেও জীবিকার তাগিদে ভোররাতে ঘর ছাড়তে হয় তাদের। শীতবস্ত্রের অভাবে আগুনের তাপ আর পাতলা কাঁথাই তাদের একমাত্র ভরসা।
যমুনা তীরবর্তী হুগড়া গ্রামের মোমেনা বেগম বলেন, এবারের শীত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্বামীহীন এই নারী নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খান, শীত নিবারণের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নেই। একই গ্রামের বিলকিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই শীতে গরম কাপড় কই পামু? নদীতে সব জমিজমা গেছে। এখন মানুষের বাড়িতে থাকি।”
চরের মরিয়ম বেগম, হাফেজা ও জয়নাব বিবিও জানান, দাসির কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন—শীতবস্ত্র কেনা অসম্ভব। বৃদ্ধা মনেজা খাতুন (৭৪) অভিযোগ করে বলেন, “শীত এলে সবাই কম্বল দেয়, কিন্তু চরের মানুষদের খবর কেউ নেয় না।”
টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় শীতবস্ত্রের বরাদ্দ এসেছে খুবই অপ্রতুল। ফলে তীব্র শীতে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে।











