খবর বাংলা
,
ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, কারাবাস, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নানা অপমানের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো প্রতিহিংসা কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে যাননি। বরং অসীম ধৈর্য, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন এই আপসহীন নেত্রী।
২০১৮ সালে পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দিজীবন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হওয়া—সবকিছুই নীরবে সহ্য করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এত প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁর পক্ষ থেকে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযম ও আভিজাত্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
এর আগে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৪০ বছরের স্মৃতি ও আবেগে জড়ানো ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ওই বাড়ি ছাড়তে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার চোখের জল ও বুকফাটা কান্না নাড়া দিয়েছিল সারাদেশের মানুষকে। সেদিনের সেই দৃশ্য আজও অনেকের স্মৃতিতে দগদগে হয়ে আছে।
নেটিজেন ও সচেতন মহলের মতে, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে ব্যক্তিগত কষ্ট ও শোক সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আপস করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, মিথ্যা মামলায় দণ্ড এবং ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু—এই সবকিছুর পরও তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। বরং সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর বক্তব্যে ঐক্য, সহনশীলতা ও ভালোবাসার আহ্বানই প্রাধান্য পেয়েছে।
সচেতন মহলের অভিমত, ব্যক্তিগত কষ্টকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করা, অপমানের জবাবে নীরব থাকা এবং দেশকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়াই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মহত্ত্বের পরিচয়। এই ধৈর্য, শিষ্টাচার ও দেশপ্রেম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।











