খবর বাংলা ডেস্ক :
ভারতের মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এতে ওই তিন জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বিডাব্লিউডিবি) জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৬.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একই দিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী তিন দিন এই প্রবণতা চলতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া সারিগোয়াইন, জাদুকাটা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে খোয়াই নদী হবিগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি বা ওপরে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
পাউবো সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিনের বিভিন্ন সময় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর একাধিক পয়েন্টে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো অধিকাংশ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, মেঘালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বন্যার পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











