ভূঞাপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় অনুমতি ছাড়াই পুকুর সংস্কারের আড়ালে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এক এক্সকেভেটর চালককে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভীর রাতে উপজেলার পৌর এলাকার ছাব্বিশা গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাবু (৩১) নামে এক এক্সকেভেটর চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে একটি এক্সকেভেটরের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাব্বিশা গ্রামের বাছেদ ও রশিদের দুটি পুকুর সংস্কারের নামে সেখানকার মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এ কাজে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা নূরে আলমের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের বেলায় এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে শত শত ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক স্থানে রাস্তার পিচ উঠে গেছে এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও কার্যক্রম শুরু হয়। রাতভর ট্রাক চলাচলের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম কমিশনার বলেন, “তদন্ত করে দেখেন। আমার নাম আসলে আমি কী করতে পারি? নিজের পুকুর সংস্কার করা যাবে না? আমি মাটি কিনতেই পারি। মাটি কোনো অবৈধ জিনিস নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগে নাম আসা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরে আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি স্থানে এক্সকেভেটর পাওয়া যায়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য একটি স্থানে থাকা এক্সকেভেটরের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অননুমোদিতভাবে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির সুযোগ নেই। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, অবৈধ কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভূঞাপুরের লিচুর বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার। ওই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের অভিযানে বাজারে লিচুর দাম কমে আসে বলে জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।











