মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের সদস্যসহ চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মধুপুর বনাঞ্চল সংলগ্ন টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১২), একই গ্রামের বাসিন্দা ও তার জামাতা গ্যাব্রিয়েল নকরেক (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। তারা সবাই স্থানীয় গারো সম্প্রদায়ের সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত গভীর কূপে পড়ে যায়। ছাগলছানাটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার ম্রং। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে তাকে উদ্ধারে কূপে নামেন বাবা বাবুল হাদিমা। এরপর তাদেরও কোনো খোঁজ না পেয়ে একে একে গ্যাব্রিয়েল নকরেক ও রতন নকরেক কূপে প্রবেশ করেন।
কিন্তু চারজনের কেউই আর উপরে ফিরে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে কূপের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, কূপের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অথবা অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম. ফজলুর হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
একই গ্রামের চারজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।











