মির্জাপুর
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের লাল মাটির পাহাড়গুলো ভূমিদস্যুদের কারণে ধ্বংস হচ্ছে। এসব পাহাড়কে কেটে মাটি বিক্রি, আবাসস্থল গড়ে তোলা ও অন্যান্য স্বার্থসিদ্ধির কারণে স্থানীয় পরিবেশ, রাস্তা ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিঝুম রাতে বনাঞ্চলের আবৃত পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন দিয়ে লাল মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে, বাড়ি ও ফসলি জমি ধুলায় ঢাকা পড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন যথাযথভাবে কাজ না করার সুযোগ নিয়ে ভূমি খেকোরা অব্যাহতভাবে পাহাড় নিধন করছে।
বিগত কয়েক বছরে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর ও লতিফপুর ইউনিয়নে অন্তত ২০টি টিলা সমতল করা হয়েছে। চলতি বছরে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে নাম উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুজন শহিদুল, ইলিয়াস, শহিদুল দেওয়ান, সাহাদত হোসেন সাদাত ও নোয়াব আলী। এছাড়া বংশাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় বালি মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগও আছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ভেকু মেশিন ও ড্রাম ট্রাক আটক করেছে এবং জেল-জরিমানা করা হয়েছে। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, অভিযান অব্যাহত আছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, পাহাড় নিধন চলতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, পাহাড় ধসে রাস্তা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।











