বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তিনি উল্লেখ করেন, “১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটি কালো মেঘের নিচে চাপা পড়েছিল। যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে দেওয়া—এ সব সহ্য করেছেন অসংখ্য পরিবার।”
তারেক রহমান আরও জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে। তবে অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি নয়; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী ও সাধারণ মানুষও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, “২০১৫ সাল থেকে আমার কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বক্তব্য প্রকাশ করা হয় না—এমন নির্দেশনা ছিল। তবুও আমি গণতন্ত্র ও মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
তারেক রহমান দেশের ধৈর্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-এর ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, “মিথ্যা মামলা ও কারাবাসের মধ্যেও তিনি গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে সরে যাননি। তাঁর বিশ্বাস—অধিকার সবার; ভয় দেখিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না।”
তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৬ বছরের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমার পরিবারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। কিন্তু কষ্ট মানুষকে সব সময় তিক্ত করে না; কখনো কখনো কষ্ট মানুষকে মহান করে তোলে। দেশনেত্রী তা প্রমাণ করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় ও ক্ষমাশীলতার পথই ভবিষ্যৎ গড়ে।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকের বাংলাদেশে আমাদের প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্যের চেয়ে বড় কিছু—একটি দেশ যেখানে মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে এবং ভিন্নমতের জন্য কাউকে নিপীড়িত হতে হবে না। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে সমাধানের পথে বিশ্বাসী।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবাধিকারই মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা শহীদের স্মরণ করি যেন ভবিষ্যতে নিপীড়ন আর দায়মুক্তি কখনো ফিরে না আসে। বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভেঙে যায়নি; বরং সত্য, ন্যায় ও আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান।”











