ধনবাড়ী সংবাদ দাতা
ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ রোগীদের সেবার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখনো নিয়োগপ্রাপ্ত হয়নি। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অনুপস্থিতি ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতাল গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তৈরি হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক সেবাও দিতে পারছে না। এখানে ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে একজনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। বর্তমানে ১০ জন চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। নার্স, ওয়ার্ডবয়, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্টসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মচারী থাকলেও চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মকর্তা নেই। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকলেও বেতন অনিয়মিত হওয়ায় তারা নিয়মিত কাজে উপস্থিত থাকেন না।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সরেজমিনে অবস্থান করলে দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে পুরুষ ও নারী রোগীদের চিকিৎসা একই কক্ষে করা হচ্ছে। মহিলা কক্ষে রাখা মোটরসাইকেল ও সাইকেল কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যাথলজিস্ট সাইফুল ইসলামের বদলে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট বিপ্লব আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সীমিত হচ্ছে।
উপজেলার আমবাগান এলাকার আরেফিন জানান, ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিপোর্ট দেখানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। টয়লেট ও ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনুপযুক্ত। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা সীমিত জনবল নিয়েই রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। বহির্বিভাগে ডা. আদনান আহসান চৌধুরী ও ডা. সেলিম আলদ্বীন বাকি চিকিৎসকদের অভাবে বিরামহীন চিকিৎসা প্রদান করছেন। ডা. আদনান জানান, “১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা উচিত, কিন্তু কেউ নেই। দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিতে আমরা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহনাজ সুলতানা বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর অভাবে সেবা সীমিত। আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা জুন মাস থেকে বেতন পাননি। শিগগিরই জনবল পূরণ হলে সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আউটসোর্সিং কর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











