টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, হয়রানি এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনব্যাপী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রিজওয়ান সিদ্দিকীর নির্দেশনায় এবং টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালের প্রবেশপথ, বহির্বিভাগ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলে নির্দিষ্ট বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে পাওয়া চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বাধ্য করা হতো।
এ ছাড়া চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাৎ, শয্যা নিশ্চিত করা কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
আটক ১৩ জনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় প্রত্যেককে সর্বনিম্ন ১০ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দালালদের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হন এবং অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে। তারা হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এলাকায় দালাল, প্রতারক ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে রোগীদের হয়রানি বা প্রতারণার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রিজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতে দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার না হন, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।











