খবরবাংলা ডেস্ক :
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যা থেকে ৪ হাজার ৮০০ জনকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গেমিং বিভাগ এক্সবক্সে বড় ধরনের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা মাইক্রোসফটের মোট **বৈশ্বিক** কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এক্সবক্স বিভাগে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। শুধু সোমবারই এ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৬০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে গেমিং ব্যবসা সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগ করেছে মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণও সম্পন্ন করে। তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও গেমিং বাজারে সনির প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এ কারণে ব্যবসাকে আরও লাভজনক ও কার্যকর করতে এক্সবক্স বিভাগে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় এক্সবক্সের চারটি গেম স্টুডিওকে আলাদা কাঠামোয় পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে কম্পালশন গেমস ও ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস স্বাধীন স্টুডিও হিসেবে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে নিনজা থিওরি ও আনডেড ল্যাবস নতুন ব্যবস্থাপনায় কাজ চালিয়ে যাবে।
কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান বলেন, ছাঁটাই হওয়া পদগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নতুন কাউকে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে কর্মক্ষেত্রের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে এবং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ব্যবসাকে আরও কার্যকর করতে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। চলতি বছর অ্যামাজন ও মেটাও হাজারো কর্মী ছাঁটাই করেছে।
এদিকে এআই সেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড ব্যবসায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এআই অবকাঠামোতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভজনকতা নিশ্চিত করতেই এই পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।











