মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় অজ্ঞাত বন্যপ্রাণীর আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামে। নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত পশুও আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝিরা, আড়ালিয়া, বেলুটিয়া, আমিল, বেতবাড়ী, গোপদ ও পদ্মপুর গ্রামে প্রাণীটির উপদ্রব বেশি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাঝিরা গ্রামের স্কুলশিক্ষক আজম আলী রাজু জানান, প্রাণীটির মুখ কুকুরের মতো, আকারে তুলনামূলক বড় এবং এটি দ্রুত চলাচল করতে পারে। শরীরে কালো ডোরাকাটা দাগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ধারণা, এটি বাঘডাশ, বাঘালিয়া কিংবা মেছো বাঘ হতে পারে। তবে প্রাণীটির প্রজাতি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে প্রাণীটির কামড়ে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক ডজনের বেশি গরু-ছাগল আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।
মাঝিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, আশপাশের গ্রামগুলোতে একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুরা এখন লাঠি হাতে কিংবা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। দিনের বেলাতেও গ্রামবাসী সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন।
মহাদাস গ্রামের স্কুলশিক্ষক হারুন-অর-রশীদ জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মধুপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়।
কলেজশিক্ষক মো. রঞ্জু তালুকদার বলেন, আড়ালিয়া গ্রামে শিশুসহ কয়েকজনকে বনবিড়াল কামড়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। পরে গ্রামবাসী জঙ্গল ঘিরে একটি বনবিড়াল মেরে ফেলেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ শিয়াল, বাঘডাশ বা বনবিড়াল সন্দেহে বন্যপ্রাণী হত্যা করছেন বলেও তিনি জানান।
মধুপুর বনাঞ্চলের সাবেক ফরেস্ট রেঞ্জার আতাউর রহমান বলেন, মধুপুর বনে এখনো বনবিড়াল, মেছো বাঘ, বাঘালি ও বাঘডাশের মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়। খাদ্যের অভাবে এসব প্রাণী কখনো বন থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। সাধারণত হাঁস-মুরগি, ছাগল, বাছুর, ছোট প্রাণী বা মাছ এদের খাদ্য। তবে বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা উচিত নয় বলে তিনি মত দেন।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান জানান, মধুপুর বনজঙ্গলসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে প্রাণীর কামড়ে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের টিকা নিচ্ছেন।
প্রাণীটির পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও বন বিভাগের তদন্ত প্রয়োজন। আতঙ্কে কোনো প্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।











