মানুষের সব চাওয়া তো আর পূরণ হয় না। কখনো কখনো বড় কোনো অর্জন হাতের মুঠোয় এলেও মন পড়ে থাকে অধরা স্বপ্নের দিকে। লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই। কোপা ট্রফি জিতেও তাঁর চোখ ছিল ব্যালন ডি’অরের দিকে।
লন্ডনে আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে প্রথমেই মঞ্চে ডাকা হয় বার্সেলোনার স্প্যানিশ উইঙ্গার ইয়ামালকে। ইউক্রেনের কিংবদন্তি আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোর হাত থেকে অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা ফুটবলারের পুরস্কার কোপা ট্রফি গ্রহণ করেন তিনি। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার এই পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল।
তবে পুরস্কার হাতে পেয়েও তাঁর চোখেমুখে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। কারণ, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যালন ডি’অর জয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের কণ্ঠে যখন ‘ব্যালন ডি’অর’ স্লোগান উঠছিল, তখন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ইয়ামালকে প্রশ্ন করেন, ‘এ নিয়ে তিনটি হলো, তাই না? কিন্তু এটাই কি সেই ট্রফি, যা তুমি খুব করে জিততে চাও?’
হাসতে হাসতে মাথা নিচু করে ইয়ামাল এক শব্দে উত্তর দেন, ‘না।’ ছোট্ট এই উত্তরেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাঁর বড় স্বপ্ন ব্যালন ডি’অর জয়।
ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন অধরাই
এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম ফেবারিট ছিলেন ইয়ামাল। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পুরস্কার জিতলে উদ্যাপনের পরিকল্পনাও ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জেতেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর তৃতীয় স্থানে থাকেন ইয়ামাল।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে ছিলেন না এই স্প্যানিশ তারকা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ২০টি গোল করিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনাকে লা লিগা এবং স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতাতেও ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল।
কুবারসিকে দিলেন কৃতিত্ব
কোপা ট্রফি হাতে নিয়েও সতীর্থ পাউ কুবারসির কথা ভুলে যাননি ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ ডিফেন্ডারকে মঞ্চে ডেকে তিনি বলেন, ‘কুবারসিকে এই জায়গায় দেখলে ভালো লাগত। কারণ, আমি মনে করি, এই ট্রফিটি তাঁর। বেশ কিছুদিন ধরেই সে খুব দারুণ খেলছে। আমি সব পুরস্কারই চাই। তবে এটার বিষয়ে বললে, ট্রফিটি কুবারসির প্রাপ্য ছিল।’
বার্সেলোনার রক্ষণে কুবারসি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, আক্রমণে তেমনি আলো ছড়ান ইয়ামাল। দুজনকেই ক্লাবটির ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অঁরির প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক
ইয়ামালকে অঁরির করা প্রশ্নটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ফুটবলপ্রেমী প্রশ্নটিকে অপ্রয়োজনীয় ও অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ফুটবলপ্রেমী লিখেছেন, ‘এটা একদমই অগ্রহণযোগ্য।’ আরেকজনের মতে, অঁরির জায়গা থেকে বিষয়টি অসম্মানজনক মনে হয়েছে।
তবে কোপা ট্রফির সঙ্গে ইয়ামালের সম্পর্ক ইতিমধ্যে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর এবারও এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ২০১৮ সালে চালু হওয়া কোপা ট্রফি টানা তিনবার জিতে নতুন কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ২০২১ সালে পেদ্রি, ২০২২ সালে গাভি এবং পরপর তিন বছর ইয়ামাল এই পুরস্কার জিতেছেন।
কিন্তু তিনটি কোপা ট্রফিও ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। তবে তাঁর সামনে এখনো অনেক সময় রয়েছে। অনূর্ধ্ব-২১ বয়সসীমার মধ্যে আরও দুই বছর এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন তিনি। সেই সময়েও যদি একই ধারায় পারফর্ম করেন, তাহলে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসতে পারে।
তথ্য সূত্র : প্রথম আলো











