সখিপুর সংবাদ দাতা
দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান হলো কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বেড়ীখোলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোস্তফা মিয়া সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
গত ১ মে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার (১৬ মে) সৌদি আরব এয়ারলাইনসের একটি বিমানে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শনিবার সকাল ১১টায় বেড়ীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজনরা জানান, জীবনের অধিকাংশ সময়ই পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রবাসে কাটিয়েছেন মোস্তফা মিয়া। প্রথম বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। একমাত্র কন্যা সন্তানকে রেখে বছরের পর বছর প্রবাসে থাকলেও সংসার টেকেনি। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে অনেক চেষ্টা করেও সেই সংসার আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
নিহতের চাচা লতিফ মিয়া বলেন, মেয়ের মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার জন্য মোস্তফা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে সেই সুখ দেয়নি। পারিবারিক কষ্ট ভুলতে তিনি আরও বেশি কাজে ডুবে যান এবং দীর্ঘদিন দেশে আসেননি।
পরে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সেই সংসারেও সন্তান হয়নি। বর্তমানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী একেবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন বলে জানান স্বজনরা।
প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করেছিলেন মোস্তফা মিয়া। কিন্তু সেই ঘরে স্থায়ীভাবে থাকা আর হলো না তার। জীবনের সব সংগ্রামের শেষে গ্রামের কবরস্থানেই হলো তার শেষ ঠিকানা।
নিহত মোস্তফা মিয়া তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন। তার বাবা আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ মা এখনও জীবিত আছেন। ছেলের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যান তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, পরিবারের সুখের জন্য প্রবাসীরা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় বিদেশে কাটান। কিন্তু অনেকের শেষ পরিণতি হয় নিঃসঙ্গতা আর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরা।











