নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
আজ সকাল ৬টা থেকে উপজেলার নলীন ও জগৎপুরা এলাকায় এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে ২২ এপ্রিল গুলিপেঁচা ও জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার পুনরায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকালে গুলিপেঁচা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম ফকির (৫০) নিজ বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় জগৎপুরা গ্রামের কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার। তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নলীন ও জগৎপুরা গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের বক্তব্য –
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।










