খবরবাংলা ডেস্ক :
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পারিবারিক রাইস মিল বিক্রির তথ্য নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে তার দপ্তর। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে মীর শাহে আলম পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানার দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব ব্যবসা তার পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।
হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
মিলটির ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার গণেশপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত মূল্যে প্রতিষ্ঠানটি কিনে মালামালসহ সব দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।
দপ্তরের দাবি, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হলফনামার তথ্য আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এক হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি ও ১২টি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ না করে মাত্র ৩১ শতাংশ জমির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পদের প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন করে না।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আলোচিত জমিটি ব্যক্তিগতভাবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।











