খবরবাংলা ডেস্ক :
ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে ব্যক্তিভিত্তিক (Personalized) ক্যানসার টিকার আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, সফল হলে এটি উন্নত পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়, ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যানসার সেন্টার (CCC) এবং লিভারপুল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস সেন্টারের গবেষক ও চিকিৎসকরা।
গবেষণার অংশ হিসেবে উন্নত পর্যায়ের নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগীর শরীরে প্রথমবারের মতো এই ব্যক্তিভিত্তিক টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ধরনের ক্যানসার টিকা গ্রহণ করলেন।
গবেষকদের মতে, প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়ায় নতুন এই টিকার মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই টিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমারের জিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ক্যানসারের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে টিকা প্রস্তুত করা হয়। ফলে একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও প্রত্যেক রোগীর জন্য টিকা হবে ভিন্ন।
গবেষণায় ‘ডগিবোন ডিএনএ’ (dbDNA) নামে একটি কৃত্রিম ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে দ্রুত, কম খরচে এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয়। আর বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের অন্যতম।
‘নিওভ্যাক’ নামে প্রথম ধাপের এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য যুক্তরাজ্যের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল প্রায় ২৬ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড অনুদান দিয়েছে। গবেষণায় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, ইমিউনোলজিস্ট, জিনবিজ্ঞানী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (NHS) চিকিৎসকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান অটেনসমায়ার বলেন, যেসব রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি পুরোপুরি কার্যকর হয় না, তাদের জন্য এই ব্যক্তিভিত্তিক টিকা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে টিউমারের এমন অংশ শনাক্ত করতে সহায়তা করবে, যা আগে সহজে ধরা পড়ত না।
অন্যদিকে ডা. কার্লেস এসক্রিউ বলেন, বর্তমানে খুব কম রোগী দীর্ঘমেয়াদে ইমিউনোথেরাপির সুফল পান। সফল হলে এই ব্যক্তিভিত্তিক টিকা উন্নত পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় কার্যকর নতুন বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











