খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শ সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্নার সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১২ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় চিলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (ব্রাজিলে আবাসিক) ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্তের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্নাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে চিলির প্রেসিডেন্ট গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চিলির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্নার বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শ সভা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এ সভা কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জেনে চিলির প্রেসিডেন্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার মেয়াদে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে ১২ আগস্ট সকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত চিলির সিনেটর রোহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিনেটর এডওয়ার্ডস ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান এবং বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
এদিকে, ১১ আগস্ট চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্নার সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকের শুরুতে ১৯৭২ সালের ১ জুন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে চিলির স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











