খবরবাংলা ডেস্ক :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম একসময় স্বপ্ন দেখতেন প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি টানা ১৩ বছর কুয়েত ও সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করেন। তবে দেশে ফিরে উপলব্ধি করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে নিজের দেশেও সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
এই উপলব্ধি থেকেই ২০২৩ সালে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মাত্র দুটি গরু কিনে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তোলেন তিনি। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সেই খামারে এখন রয়েছে ৩০টি গরু। সর্বশেষ কোরবানির ঈদে প্রায় ৪৫ লাখ টাকায় ২০টি গরু বিক্রি করে আলোচনায় আসেন এই উদ্যোক্তা।
খামারের পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা আবুল কাশেম শুধু গরুর খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। গবাদিপশুর খাদ্যের চাহিদা পূরণে চার একর জমি বর্গা নিয়ে ধান ও ঘাস চাষ করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। পাশাপাশি খামারের আয়ের অর্থ দিয়ে নিজ বাড়ির সামনে একটি মুদি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান গড়ে তুলেছেন, যেখান থেকেও নিয়মিত আয় হচ্ছে।
১০ জনের কর্মসংস্থান বর্তমানে তার খামারে ১০ জন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন সকালে কর্মীরা গরুর পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ, ঘাস কাটা ও খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত থাকেন। আধুনিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুষম খাদ্যের কারণে খামারের গরুগুলোও সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান।
তরুণদের জন্য বার্তা আবুল কাশেম বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিবর্তে সেই অর্থ দিয়ে দেশে গরুর খামার বা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করলে সফল হওয়া সম্ভব।
“পরিশ্রম, ধৈর্য আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে নিজের দেশেই সফলতা অর্জন করা যায়। আমি চাই তরুণরা বিদেশমুখী না হয়ে দেশেই উদ্যোক্তা হোক।”
তিনি জানান, শুরুতে নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হলেও সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
স্থানীয়দের প্রশংসা খামারের শ্রমিক আবু হানিফ বলেন, আগে নিয়মিত কোনো কাজ ছিল না। এখন এই খামারে কাজ করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন।
আরেক কর্মী এমদাদ হোসেন জানান, চাকরির পাশাপাশি তিনি গরু পালনের আধুনিক কৌশলও শিখছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেও একটি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।
স্থানীয় শিক্ষক আবদুল হাকিমের মতে, আবুল কাশেমের উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সফলতা নয়, এটি পুরো এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ। একই মত প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরাও বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আবুল কাশেম দেখিয়ে দিয়েছেন—সফল হতে বিদেশই একমাত্র পথ নয়।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











