গোপালপুর সংবাদ দাতা
দুই পাশে গভীর পুকুর। মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা একটি ভবন। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এমন পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ২০২৩ সালে সেখানে নির্মাণ করা হয় নতুন তিনতলা ভবন। নতুন ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যালয়ের জায়গার ব্যবহার ও ভবনের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের মোট ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। কিন্তু দুই পাশে পুকুর থাকায় বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই। তাদের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের আগে পুরোনো ভবনটি সরিয়ে উত্তর-দক্ষিণে, পূর্বমুখী করে ভবন নির্মাণ করা হলে একদিকে ভবনটি তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে থাকত, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের একটি খেলার মাঠেরও সুযোগ তৈরি হতো।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, অদৃশ্য চাপের কারণে তড়িঘড়ি করে পূর্ব-পশ্চিমে দক্ষিণমুখী করে দুই পুকুরের মাঝখানে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ফলে দক্ষিণ পাশের মাটি পুকুরের দিকে সরে গিয়ে ভবনের নিচের প্রধান সিঁড়ি, পিলার, র্যাম্পসহ ওপরের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের আগে পুকুরে দুপাশে পাশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলে এতোটা ঝুঁকি থাকতো না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে , ভবন নির্মাণে সময় বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি সরিয়ে একপাশে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোমলমতি শিশুদের পাঠাতে তারা নিরাপদ বোধ করছেন না। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনটি ঘিরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন তারা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম খাতুন বলেন, দুই পুকুরের মাঝখানে হওয়ায় ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন। চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য বর্তমানে তার কাছে নেই। ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ও নির্মাণকাল সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
তবে বিদ্যালয়টির ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান ভবনের বড় বড় ফাটল থাকলেও এতে আপাতত কোনো ঝুঁকি দেখছেন না বলে জানান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা ও ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।











