ঘাটাইলে কৃষি জমির মাটি ইটভাটায়; বাড়ছে খাদ্য ঝুঁকি

বিশেষ প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় দো-ফসলি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলো।

এতে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির উর্বরতা শক্তি। ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।

মাটি ভর্তি ট্রাক অবাধ চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক; আর ধুলোবালিতে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট’সহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রশাসনের তদারকি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে পড়ছে এসব মাটি ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাধুর গলগন্ডা গ্রামের মিন্টু, বসুবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন, বীরচারী চান্দে পাড়া গ্রামের সুমন, মনির, তেলে গলগন্ডা গ্রামের সুমন মিয়া, দেওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার খোরশেদ আলম খসরু, শোলাকী পাড়া গ্রামের কদ্দুছ, তালতলা গ্রামের আ. রহিম, গারো বাজার গ্রামের আলামিন’সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার বিভিন্ন দো-ফসলি জমিতে অবৈধ ভাবে বেকু বসিয়ে দেদারছে মাটি সরবরাহ করছে ইটভাটায়।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এসব মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে তেলে গলগন্ডা গ্রামের সুমন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটির ব্যবসা করে থাকি।

রাস্তাঘাটের বেহাল দশার বিষয়ে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন’র নিকট জানতে চাইলে বলেন, এ রাস্তাটি আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে করেছিলাম। রাস্তাঘাট নষ্টের ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

ধলাপাড়া গ্রামের শফিক উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মাটি ব্যবসায়ীরা পাহাড় আর ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে।

প্রতিবাদ করলে তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমিতে মাটি কাটতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে।

জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত যারা মাটি কাটে তারা অবৈধ। পরবর্তীতে ইটভাটাগুলোতে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি মাটি কাটার বিষয়টি নজর দেয়া হবে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, ফসলি জমির টপলেয়ার কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়।

এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, বাড়ছে খাদ্য ঝুঁকি। সম্পাদনা – অলক কুমার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *