ধনবাড়ী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিরাপদ ও জৈবিক পদ্ধতিতে চুইঝাল চাষ করে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন শৌখিন কৃষক তপন কুমার বর্দ্ধন। হর্টিকালচার সেন্টারের প্রযুক্তি ও মসলা প্রকল্পের সহায়তায় এ অঞ্চলে সম্পূর্ণ নতুন এই মসলা চাষ করে তিনি রীতিমতো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
তপন কুমার বর্দ্ধন ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের হাজরাবাড়ী গ্রামের বীরেন্দ্রচন্দ্র বর্দ্ধনের ছেলে। তিনি কেবল একজন সফল কৃষকই নন, তার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন রকমারি বৃক্ষ ও দুর্লভ প্রজাতির এক বিশাল উদ্যান।
প্রকল্পের সহায়তা ও আধুনিক চাষাবাদ ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে “মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় ১০ শতাংশ জমিতে চুইঝাল চাষ শুরু করেন তপন। এর আগে এই অঞ্চলে চুইঝাল অপরিচিত হওয়ায় তাঁর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রকল্পের পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চারা, সার ও বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
চারা বিক্রি করেই আয় ২০ হাজার টাকা চুইঝাল চাষের দ্বিতীয় বছরে এসে তপন কুমার কাটিং পদ্ধতিতে নিজের বাগানেই চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে মূল ফসল সংগ্রহ এখনো শুরু না হলেও, ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৪০০টি চারা বিক্রি করেছেন। প্রতি চারা ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
সফল এই কৃষক জানান, “সকাল-বিকাল বাগানে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে। চুইঝাল চাষের মাধ্যমে আমার বাগানে বৈচিত্র্য এসেছে। সামনে আমি চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ধনবাড়ী উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ রাসেল পারভেজ তমাল জানান:
“চুইঝাল এই অঞ্চলে আগে চাষ হতো না। প্রকল্পের মাধ্যমে এটি সফলভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বহুমুখী হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন মসলা ভ্যালু চেইন তৈরি হবে।”
বর্তমানে স্থানীয় কৃষক ও নার্সারি মালিকরা তপন কুমারের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছেন এবং নতুন চারার অর্ডার দিচ্ছেন। এতে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে নতুন এই মসলা চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।











