খবরবাংলা ডেস্ক :
ভারতের মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক ক্রিকেটার অনয়া বাঙ্গার অস্ট্রেলিয়ায় আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, আপাতত দেশটির কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে পারবেন তিনি।
সব শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এলিট নারী ক্রিকেটেও খেলার যোগ্য হবেন অনয়া। সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া নারী ক্রিকেটের পাশাপাশি নারীদের বিগ ব্যাশ লিগেও খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনয়া ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। তার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে অস্ত্রোপচারের পর ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ প্যানেল অনয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া গবেষণা ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মূল্যায়ন অনুযায়ী, অনয়া ২০২৭ সালের মার্চে এই শর্ত পূরণ করবেন। তখন অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে আবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।
পরীক্ষায় নির্ধারিত সীমার মধ্যে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে শীর্ষ পর্যায়ের নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্য হবেন তিনি। তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে খেলতে পারবেন অনয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালায় প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় ধরা হয়।
অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল। তার ভাষ্য, এই মাত্রা পরীক্ষাগারের নির্ধারিত নারী রেফারেন্স সীমার মধ্যেই রয়েছে।
২৫ বছর বয়সী অনয়া বলেন, কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবার খেলায় ফেরার পথ তৈরি হওয়া তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অনুমতি পাওয়াকে দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না অনয়া। তার মতে, যোগ্যতা অর্জন এবং দলে নির্বাচিত হওয়া আলাদা বিষয়। মাঠে ফিরে অনুশীলন, প্রতিযোগিতা এবং ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নিতে চান তিনি।
ক্রিকেটে ফেরার এই সুযোগ অনয়ার কাছে আবেগেরও। রূপান্তরের সময় তার মনে হয়েছিল, হয়তো আর ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে ফিরে আসার পথ খোঁজার পর অবশেষে সেই সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











