জমি লিখে না দেয়ায় বাড়ি ছাড়া ষাটোর্ধ বাবা-মা

বাসাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশের জমিতে খোলা আকাশের নিচে একটি চৌকির ওপর মশাড়ী টানানো রয়েছে।

চৌকির পাশেই রান্না করছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ মেহেরুন বেগম (৬৫)। আর চৌকিতে ঘুমিয়ে রয়েছে তার স্বামী আব্দুল খালেক (৭০)।

আপনারা এখানে কেন? জিজ্ঞাসা করতেই বৃদ্ধা মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আড়াই মাস ধরে আমার দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

পরে আমার ভাইয়ের বাড়িতে যাই। এরপর সেখান থেকে চলে এসে গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করছি।

রান্না করার মতো কিছুই নেই আমাদের কাছে। কিছু না থাকায় আশপাশের অনেকেই চাল ও তরকারী দিয়ে যাচ্ছে।

এই বয়সে রান্না করতে পারি না বাবা। তারপরও কষ্টে রান্না করে আমরা দুই বুইরা-বুড়ি খাচ্ছি। আমাগো একটা ব্যবস্থা করো বাবা?

এসময় তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করেছে অনেক আগেই। আর মেয়েরও বিয়ে হয়েছে।

দুই ছেলেই বিদেশ গিয়েছিল। এখন তারা ব্যবসা করছে। প্রায় ৩ বছর আগে দুইজনের নামে ৬ শতাংশ করে ১২ শতাংশ ভিটাবাড়ি লিখে দিই।

আর গত ৩ মাস আগে আমার স্বামী আব্দুল খালেক আমার নামে চকের ৩২ শতাংশ জমি লিখে দেন।

এরপর দুই ছেলে বাবলু ও কাদের সেই ৩২ শতাংশ জমি লিখে নিতে চাপ প্রয়োগ করে।

এই ৩২ শতাংশ জমি লিখে না দেওয়ার কারণে দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’

মেহেরুন বেগমের স্বামী আব্দুল খালেক বলেন, ‘ছেলেরা আরও জমি লিখে নিতে চাচ্ছে।

আমারা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’

স্থানীয়দের মন্তব্য –

স্থানীয় চম্পা বেগম বলেন, ‘বাড়িভিটা ১২ শতাংশ জমি দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছেন তারা।

এরপর মেহেরুন বেগমের নামে ৩২ শতাংশ চকের জমি তাদের দুই ছেলে লিখে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা দিতে রাজি নন।

এ কারণে গত আড়াই মাস ধরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলেরা। পরে তারা অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।

সেখান থেকে তারা গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করে আসছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা খান বাহাদুর বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আজকের মধ্যেই তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হবে।’

এদিকে দুপুরে ওই অসহায় বাবা-মায়ের ছেলেদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরে জানা যায়, তারা কোনও এক আত্মীয় বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছে।

এরপর রাত ৮টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই অসহায় বাবা-মাকে তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দিতে যায়।

এ সময় ছোট ছেলে কাদেরের সঙ্গে হাতাহাতি হয় গ্রামবাসীর। এক পর্যায়ে তাদের বাড়িতে তুলতে বাধ্য হয় ছেলেরা। সম্পাদনা – অলক কুমার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *