সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি চালক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে আছে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনের সরকারি এই সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে রেফার করা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়। এতদিন একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একজন চালকের মাধ্যমে কোনোভাবে সেবা চালু ছিল। তবে গত ২৬ এপ্রিল একমাত্র চালক দেবাশিস বিশ্বাসকে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেষণে বদলি করা হলে সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
চালক না থাকায় এখন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে জরুরি রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে, যেখানে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে চালককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক নাজনীন আক্তার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তার স্বামীকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত চালক নিয়োগ বা পূর্বের চালককে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, হাসপাতালে একটি মাত্র চালকের পদ রয়েছে। চালককে প্রেষণে অন্যত্র নেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।











