টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
পবিত্র শবে-বরাতকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার চেষ্টা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। যদিও এই বছর রমজানকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ নিত্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে, তবু এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বাজারে সব ধরনের ডালের দাম উর্ধ্বমুখী। ভোজ্যতেলের দাম ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর চিনির দামও ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। খেজুরের দাম প্রতি কেজিতে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। খোলা চিনি মানভেদে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক মাস আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ভালো মানের মসুর ডালের দাম খুচরা বাজারে ১৬০-১৭০ টাকার মধ্যে, আর পাঁচ লিটারের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৯৬০-৯৮০ টাকায়।
নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে ক্রেতাদের স্বস্তি মিলছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। তবে আদা, রসুন, জিরা ও গরম মসলার মতো মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা বেশি। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডাল ও চিনির দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। শবে-বরাতকে সামনে রেখে এই চক্র বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র শবে-বরাতের দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন। ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শবে-বরাত পালিত হবে, এবং এর ১৫ দিনের মধ্যে রমজান মাস শুরু হবে। রমজানে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্যের চাহিদা থাকে, তবে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ আমদানিও করা হয়েছে।
বাজারে পাইকারি পর্যায়ে চিনি, ছোলা, ডাল, সয়াবিন তেল, গম, খেজুর ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের সরবরাহ এখন পর্যাপ্ত। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর রমজানের পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে অনেক পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে পণ্যের দাম বাড়বে না।
শীতের সবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে। ফলে এক ডজন ডিমের দাম ১১০ টাকা, যা আগের থেকে ১০ টাকা কম। মুরগির দাম আগের মতো স্থিতিশীল। ফুলকপি ও লাউয়ের দাম এখনও বেশি, প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা এবং লাউ ৮০ টাকার বেশি। নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, প্রতিকেজি ৬০-৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা, দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।











