খবরবাংলা ডেস্ক :
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আটলাস লায়ন্সরা। সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারানোর পর এখন ফুটবল বিশ্বে নতুন প্রশ্ন— এবার কি সত্যিই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার মরক্কো?
কানাডার বিপক্ষে স্কোরলাইন স্বস্তিদায়ক হলেও পারফরম্যান্স ছিল বাস্তববাদী। পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিয়েই তিন গোল করেছে মরক্কো, যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে জয়ী কোনো দলের সবচেয়ে কম শট থেকে তিন গোল করার বিরল কীর্তি। প্রথমার্ধে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণেই বেশি মনোযোগ ছিল তাদের। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে মরক্কো। সর্বশেষ ২০২৫ সালে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে কেনিয়ার বিপক্ষে হারের পর আর কোনো ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখেনি দলটি।
কানাডা ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মরক্কো এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ কার্যকরভাবে থামিয়ে দেয়।
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। অন্যদিকে ব্রাহিম দিয়াজ দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেছেন, যা আফ্রিকার কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাসও গড়েছে মরক্কো। ২০২২ ও ২০২৬— এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে নকআউট পর্বে তাদের জয় এখন চারটি, যা আফ্রিকার অন্য সব দেশের মোট নকআউট জয়ের সমান।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ফ্রান্সের কাছেই বিদায় নিতে হয়েছিল মরক্কোকে। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার মরক্কোর সাফল্য কোনো অঘটন নয়। দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল পরিকল্পনা, আধুনিক একাডেমি এবং ইউরোপে বেড়ে ওঠা প্রতিভাবান ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দল। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের মতো তারকারা সেই পরিকল্পনার সফল উদাহরণ।
কোচ উহাবি মনে করেন, মরক্কো এখন আর চমকের দল নয়, বরং বিশ্বকাপ শিরোপার প্রকৃত দাবিদার। তার ভাষায়, “এখন কেউ আমাদের অঘটনের দল বলে না। সবাই আমাদের শিরোপার লড়াইয়ে থাকা দল হিসেবেই দেখে। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
২০২২ সালে মরক্কোর গল্প ছিল রূপকথার। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্প এখন আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লড়াই।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











