মো: জিসান রহমান
,
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবরার ফাহাদ হল প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শতভাগ নিরাপদ, ভীতিহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর ও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর প্রাক্কালে হলের মূল প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও নোটিশ বোর্ডে মাদক ও র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়ে সচেতনতামূলক বিশাল ব্যানার ও দিকনির্দেশনা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হলের অভ্যন্তরে সকল ধরনের র্যাগিং এবং মাদকদ্রব্য রাখা, কেনাবেচা কিংবা সেবন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
এর কোনো একটির সাথে যুক্ত থাকার ন্যূনতম অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোরতম আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হল প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নবীন শিক্ষার্থীদের মনে যেমন নিরাপত্তার সুবাতাস এনে দিয়েছে, তেমনি একটি আদর্শ ও সুস্থ ক্যাম্পাস গঠনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শহীদ আবরার ফাহাদ হলের প্রভোস্ট ড. মো. রাশেদুজ্জামান হলের সকল হাউজ শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে এক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা সম্পন্ন করেছেন। সভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা নবীন শিক্ষার্থীরা হলের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা সমঅধিকারে ও পূর্ণ স্বাধীনতায় ভোগ করতে পারবে। যদি হলের কোনো রুমে, করিডোরে বা কোনো কোণে র্যাগিং দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং অভিযুক্তের সিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।
প্রভোস্ট আরও স্পষ্ট করেন যে, হলের মধ্যে মাদক, বিড়ি-সিগারেট খাওয়া, ক্রয় বা বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী যে-ই হোক না কেন, দোষী সাব্যস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তার সিট বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নিতে হল প্রশাসন বেশ কিছু চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং হলের সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের মান উন্নত ও সুষম রাখতে ডাইনিংয়ের জন্য ধারাবাহিকভাবে তদারকি ও বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
হল প্রশাসনের এই কঠোর ও ইতিবাচক অবস্থানকে আরও বেগবান করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টর অফিসও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর নতুন পরিবেশ ও ক্যাম্পাস সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরুতে অনেকেরই কিছুটা অসুবিধা হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়।
এই বাস্তবতাকে দূর করতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. শহীদুল ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এক বিশেষ গ্রুমিং প্রোগ্রাম শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নবীনদের আবাসন, শিষ্টাচার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং ক্যাম্পাস জীবনের করণীয় বিষয়ে বাস্তবসম্মত গাইডলাইন দেওয়া হবে, যা হলের শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতেও বড় সহায়ক হবে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকেও র্যাগিং ও বুলিংকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ প্রক্টোরিয়াল বডির সহকারী প্রক্টরদের সর্বদা সতর্ক থাকার ও শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শহীদ আবরার ফাহাদ হল প্রশাসনের এই যুগান্তকারী ও জিরো টলারেন্স নীতি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল মনে করছেন, হলের এই কঠোর ও পজিটিভ পদক্ষেপ একটি নিরাপদ ও মানবিক উচ্চশিক্ষা পরিবেশ তৈরিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।











