খবর বাংলা ডেস্ক :
রাজধানীর মিরপুরে নূরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘরভর্তি ময়লা-আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, বাসাটির অবস্থা এতটাই নোংরা ছিল যে সেখানে অবস্থান করতেও পুলিশের সদস্যদের কষ্ট হচ্ছিল। তিনি বলেন, মৃত বৃদ্ধার সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক পর্যায়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নূরজাহান বেগমের এক ছেলে, যিনি যুগ্মসচিব পদে কর্মরত, তাকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কী বলছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন? বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ প্রণয়ন করা হয়। আইনে বলা হয়েছে, সামর্থ্যবান সন্তানদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সঙ্গ ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
একাধিক সন্তান থাকলে সবাই মিলে দায়িত্ব ভাগ করে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া চাকরি বা অন্য কারণে দূরে থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া ও দেখা-সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না। সন্তানরা অনুপস্থিত থাকলে নাতি-নাতনিদেরও দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
আইন না মানলে শাস্তি পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন বাস্তবায়নে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, এ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











