বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বাবা-মায়ের নিরাপদ আবাস

উজ্জল মিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বাবা-মায়ের নিরাপদ আবাস’, লেখা ফেস্টুন দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সবার।

শুধু ফেস্টুন টানানোই নয়, খুঁজে খুঁজে সেই সব পরিবারের পুত্রবধুকে পুরস্কৃত করছেন; যারা তার শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেন নিজের পিতা মাতার মতো।

এমনি এক উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন।

থানার ভিতরে ফেস্টুনে লেখা আছে ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বাবা-মায়ের নিরাপদ আবাস’।

পুত্রবধূ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করে আল্লাহ তাকে আখিরাতে পুরস্কার প্রদান করবেন।

সেখানে আরো লেখা আছে- শ্বশুর-শাশুড়িকে যে সেবা যত্ন করবে ও একসাথে বসবাস করবে সেই ভাগ্যবতীকে পুরস্কৃত করা হবে।

একটি টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ী, পোড়াবাড়ির চমচম ও শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে সেই গৃহবধুকে। সেইসাথে পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর উল্লেখ করা আছে। বিষয়টি মুহুর্তেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কলেজ পাড়ার শিউলি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পারি। সেটা আমার খুব ভালো লাগে।

আমিও আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের মা-বাবার মতো ভালোবাসি ও তাদের সেবা যত্ন করার চেষ্টা করি। তাদের সেবা করে আমি আত্মতৃপ্তি পাই।

মাহমুদা আক্তার জানান, পুরস্কার পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে এমনিতেই দেখাশুনা করি। সারাজীবনই করবো।

মাহমুদার শ্বশুর কাজী মুজিবুর রহমান জানান, আমার মেয়ে আমাকে যেমন ভালোবাসে, আমার ছেলের বউও ঠিক তেমনি ভালোবাসে।

আমাদের সেবাযত্নে কোনো ত্রুটি করে না। আমরা ভাগ্যবান বলেই এমন ছেলের বউ পেয়েছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন জানান, আমার ছেলে ও ছেলের বউ আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সেবা করে।

একজন পুলিশ অফিসার আমার বউমাকে পুরস্কৃত করেছে।

এদিকে পুরস্কৃত হয়ে দুই গৃহবধুই খুশিতে আত্মহারা।

যে ভাবনা থেকে শুরু – 

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, আমি লক্ষ্য করেছি বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের অবহেলায় মা-বাবা অযত্নে জীবনযাপন করেন। অনেকেই ঠিকমত খাবারও দেয় না।

আর্থিক অবস্থা ভালো সন্তানেরা মা-বাবাকে ছেড়ে বউ বাচ্চা নিয়ে আলাদা বসবাস করে। অনেক সন্তানরাই ভুলে যায় এই মা-বাবা দিনরাত পরিশ্রম করে এই সন্তানের মুখে আহার তুলে দিয়ে শিক্ষিত করেছেন।

তারা এও ভুলে যায় তাদের একদিন বৃদ্ধ হতে হবে। অনেক সন্তানরা কাজের প্রয়োজনে বাইরে ব্যস্ত থাকে। তাদের মা-বাবা পুত্রবধূর কাছে বেশি সময় কাটায়। আমার উদ্দেশ্য ওই পুত্রবধূদের উৎসাহিত করা।

তিনি আরো বলেন, যারা মা-বাবাকে ছেড়ে দূরে চলে যায় ও অনেকের একাধিক সন্তান থাকার পরও মা-বাবাকে কাছে রাখা নিয়ে ঠেলাঠেলি করে দূরে সরিয়ে দেয়, সেই সব সন্তান ও পুত্রবধূর প্রতি প্রতিবাদ স্বরূপ এই আয়োজন করেছি। যাতে কোনো মা-বাবাকে অবহেলা ও বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়। সম্পাদনা – অলক কুমার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *