মানসিক ডায়েট: যেভাবে আপনার বিশ্ব এবং জীবন পরিবর্তন করতে পারেন

সংক্ষেপে, আপনি যদি চান আপনার জীবনে সুখী এবং সমৃদ্ধ হতে চান, তবে আজ থেকে এই মানসিক ডায়েটে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারেন।

টানা ১৫ দিন, আপনি আপনার চিন্তাভাবনা নির্বাচনে বিচক্ষণ হতে হবে এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। আপনি হয়তো প্রথম চিন্তাটি যা আপনার মনের মধ্যে প্রবেশ করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তবুও আপনি দ্বিতীয়টি নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা অবশ্যই করতে পারেন। প্রথমে এটি আপনার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। বস্তুতপক্ষে আপনি যদি অধ্যবসায়ী হন, প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে এই ডায়েটিং প্রক্রিয়াটি আপনার জন্য সহজ হয়ে উঠবে। এভাবে আপনি এমন একটা জীবন তৈরি করতে পারবেন যা আশেপাশের সবাইকে আকৃষ্ট করবে।
অনেক সময় আমরা ইতিবাচক হয়ে কাজ শুরু করি। অনেকটা সেই ব্যক্তির মতোই যে ডায়েট ডায়েট করে এবং তারপরে ওজন হ্রাস করে এবং পরবর্তীতে খাদ্যাভ্যাস মেনে না চলার জন্য ওজন আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
এই ডায়েটটি সেই ডায়েটের মতো হতে পারে যদি আপনি প্রতিনিয়ত ডায়েটিং এর প্রতিশ্রুতি মেনে না চলেন । আপনি এই মুহূর্ত থেকে প্রতিটি সময়ে, প্রতিটি চিন্তায় ডায়েটিং এর শর্ত মেনে কাজ করতে পারেন যা আপনাকে দুর্দান্ত ফলাফল এনে দিতে পারে, যা আপনাকে সারাজীবন আপনার অবস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। কোন ধরনের ক্ষতিকারক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনি সারা জীবন এই ডায়েটের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনি যদি এই ডায়েট চালিয়ে যান‌ তাহলে আপনার নতুন চিন্তার অভ্যাসটি প্রথম সপ্তাহের মধ্যে একটি ভিত্তি তৈরি করবে। ১৫ দিনের মধ্যে আপনি একটি অভ্যাস তৈরি করবেন যা পরবর্তীতে অনুসরণ না করায় আপনার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
যা করবেন-
১। মানসিকভাবে আপনার ১৫ দিন মানসিক ডায়েটিং এর জন্য উৎসর্গ করতে হবে এবং আপনার চিন্তা ভাবনার গতিবিধি গুলো লক্ষ্য করতে হবে ।
২। সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিশ্বাস করতে হবে আজকের দিনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি দিন। আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন, আপনাকে অবশ্যই নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে, এমনকি এক মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক চিন্তা মাথায় আনা যাবে না।
৩। ইতিবাচক, গঠনমূলক বা আশাবাদী নয় এমন কোন চিন্তায় আপনার মনকে দোদুল্যমান হতে দেওয়া যাবে না। এটি এমন প্রতিশ্রুতি যা আপনাকে কঠিন সময়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে এবং আপনি যদি সন্ধ্যায় নিজেকে অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত মনে করেন মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে, তবে আপনি অনুভব করবেন যে ডায়েট কাজ করছে এবং আপনি আপনার জীবনকে আরও উন্নত করতে চলেছেন।
৪। আপনি কি পরিবর্তন দেখতে পেলেন? কোন অবস্থাতে আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারবেন না। আপনার মনে রাখতে হবে, আপনার চিন্তা-ভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হতে থাকবে।
৫. আপনি ডায়েট শুরু করার সাথে সাথে আপনার মন আপনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। আপনি যে খাবারগুলো ডায়েটের আগে খেতেন সেই খাবারগুলো খাবার জন্য আপনাকে বিভিন্ন সময় উস্কানি দিবে। অনুরূপভাবে এই ডায়েটটি আলাদা নয়, আপনি আপনার মন আপনাকে নেতিবাচক দিকে নিতে চাইবে, কিছু বলতে বা কারও বা কিছু সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে বলবে। আপনাকে নেতিবাচক মন্তব্য থেকে দূরে থাকতে হবে ‌।
৬। অনেক সময় আমরা ডায়েটিং এর শর্ত ভেঙে বলি আজকে একটু ডায়েটিং করব না, হয়তোবা এক টুকরো কেক খাবো, এইতো আজকে একটু বিরিয়ানি খাবো এমন চিন্তাভাবনায় আপনি ডায়েটিং এর শর্ত ভেঙে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে আপনি আবার পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে চলে আসেন। অনুরূপভাবে আপনাকে মানসিক ডায়েটে প্রতিটা শর্ত প্রতিটা মুহূর্তে প্রতিটা দিনে মেনে চলতে হবে। একবার আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে পুনরায় আপনাকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
৭। আপনাকে প্রতিবার নেতিবাচক চিন্তায় সংশ্লিষ্টতার সময় অবশ্যই গণনা করতে হবে এবং যদি আপনি নিজেকে নেতিবাচক চিন্তাধারার উপর নির্ভর করেন এমন কোন পরিস্থিতি দেখতে পান তবে আপনাকে ডায়েটটি আবার শুরু হবে।
আসুন আমরা মানসিক ডায়েট করার চেষ্টা করি, নিজেকে এবং আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে নতুন একটা জীবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।
#Mental Diet
#Positive
#constructive
#optimistic
#Kind

সূত্র: rtvonline.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *