মির্জাপুর প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন মিয়া নামে এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী শিমু আক্তার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক প্রদীপ চন্দ্র সরকার। আপন বর্তমানে কক্সবাজার জেলার রামুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর আগে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে সেনা সদস্য আপন মিয়ার সঙ্গে একই উপজেলার লতিফপুর গ্রামের শাজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক প্রস্তাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন আপনের পরিবার। শিমুর পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থাকায় যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে শিমুর ওপর শুরু হয় নির্যাতন।
গত ২১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন সেনা সদস্য সৈনিক আপন। এরপর ২৩ মে যৌতুকের টাকা না পেয়ে জোরপূর্বক শিমুর মাথার চুল কেটে দেয় হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঈদের পরের দিন ২৯ মে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার ধেরুয়া জলকুটির এলাকায় বেড়াতে যায় আপন। সেখানে শিমুর শরীরের বিভিন্নস্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। এসময় গৃহবধূর গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে যায় স্বামী আপন।
পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার দিকে তাঁকে মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় শিমুদের গ্রামের পাশে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে আসেন আপন। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে শিমুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনায় ২ জুন স্বামী আপন মিয়াসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিমু আক্তার।
ভুক্তভোগী শিমু আক্তার বলেন, এরআগেও একটি মেয়ের সঙ্গে আমার স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই মেয়েটি বিয়ের দাবিতে বাড়িতে উঠেছিলো। যৌতুকের জন্য তাকে অনেক মারধর করা হয়। তবুও তিনি স্বামীর সংসার করতে চেয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য্যের সীমার বাইরে চলে গেছে বলে শিমু অভিযোগ করেন।
সেনাবাহিনীর সদস্য আপন মিয়া মুঠোফোনে বলেন, দেওহাটা এলাকার সাগর নামে একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে তার স্ত্রী শিমুর। সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। পরকীয়া প্রেমের কারণে চার মাসের বাচ্চাটি হাসপাতালে গিয়ে নষ্ট করে। আমি তাকে নির্যাতন করিনি। কিছুদিন আগে টাইফয়েড জ্বর হয়। ডাক্তারের পরামর্শে শিমুর মাথার চুল কেটে দেয়া হয়।
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি জানান, ওই গৃহবধূর পরিবার একাধিকবার আমার কাছে এসেছে। তাঁরা গ্রাম্য সালিশে বিচার না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।











