ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশের ৬৫ কিলোমিটার অংশে গাড়ির চাপ আছে কিন্তু যানজট নেই। তবে যানজট না থাকায় বেড়েছে গাড়ির গতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিছু গাড়ির চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদ যাত্রায় সবসময়ই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়ে, সেই সাথে থাকে প্রচুর যানজট, যা ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তি চরমসীমায় পৌঁছে দেয়। তবে এবারের চিত্রটা পুরোপুরিই আলাদা। এবার গাড়ির চাপ থাকলেও, নেই যানজট। অতিরিক্ত গাড়ি, কিন্তু যানজট নেই, তাই অতিরিক্ত গতিতে ছুটছে প্রতিটি গাড়ি, ফলে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। যানজট নিরসনে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কাজ করছে মহাসড়কে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা বিধানে নিরলসভাবে কাজ করছে।
সরেজমিনে শনিবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। গণপরিবহনের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্যক্তিগত গাড়ি এমনকি মোটরসাইকেল নিয়েও গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটছে মানুষ। তবে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর মহাসড়কে নেই কোন যানজট। এর ফলে এক দূরপাল্লার অনেক বাসের ড্রাইভার অতিরিক্ত গতিতে দ্রæততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে অনেক বাস ড্রাইভার অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেক করছেন। সেক্ষেত্রে তারা মোটরসাইকেলসহ ছোট ও মাঝারি যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায়। সামান্য একটু এদিক সেদিক হলেই ঘটে যাবে বড় ধরণের দুর্ঘটনা, ঘটবে প্রাণহানী। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মোটরসাইকেল আরোহীরা।
এসময় ট্রাক, পিকআপ, মোটর সাইকেল ও মুরগির খাঁচার উপর বসে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যসহ বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও ভোগান্তি বহুগুণে বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যানজট ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে গণপরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চালক ও যাত্রীদের কথা –
যানজট মুক্ত ঈদ যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর যানজট মুক্ত ঈদ যাত্রা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য অনেক চালকদের সাথে কথা বলা যায়নি। তবে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কয়েকজন চালকের সাথে কথা বললে জানান, বড় বড় কোম্পানীর গাড়িগুলোই অতিরিক্ত গতিতে চলছে। এসময় কয়েকজন চালক বলেন, ভাই একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। আমরা অনেক চালক বাড়তি কিছু টাকা আয় করার জন্য অতিরিক্ত গতিতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই। আর তখনই দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। তিনি অন্যান্য চালকদের নিয়ন্ত্রিত গতির মধ্যে গাড়ির চালাতেও অনুরোধ করেন।
পুলিশের বক্তব্য –
এই বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তায় একটি স্বস্তি যানজট নেই, কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির গতি অতিরিক্ত বেশি। যার ফলে বেড়েছে দুর্ঘটনার আশংকা।
অপর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ বলেন, রাস্তায় কোন চাপ নাই। কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি যমুনা সেতুর উপর বিকল হয়ে পড়ায় কিছু কিছু যানজট হয়। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই যানজট নিরসন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এই বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ভোগান্তিমুক্ত ঈদ যাত্রা উপহার দিতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশের ৬৫ কিলোমিটার যানজট নিরসনের পুলিশের প্রায় সাড়ে ৭শ’ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।