খবরবাংলা ডেস্ক :
দুর্নীতির মামলার আসামি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নান এবং তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতির পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
দুদকের করা প্রথম মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ আব্দুল হান্নান বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও মামলা
শেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে দুদক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাহমিদা বেগম জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০২১ সালে বিমানবাহিনীর প্রধান হন শেখ আব্দুল হান্নান
শেখ আব্দুল হান্নান ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি ২০২১ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ২০২৪ সালের ১১ জুন দায়িত্ব থেকে অবসরে যান। অবসরের পর তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।
কাতারে তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে তথ্য নিশ্চিত করা হলেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া, তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ কিংবা মামলাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











