ধনবাড়ী
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গ্রামের উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন।
ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, যিনি ডাক নাম বহুলুল, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট এলাকার কৃতি সন্তান। দেশের সেরা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে তিনি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামে (এনডিএফ) সুপরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে এফসিপিএস ও মেডিসিনে এমসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রথমে মধুপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলীকে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিল। আইনি জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ডা. কাফিকে মনোনয়ন দেন। স্থানীয়রা তার মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ডা. কাফি ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট সমুতকুড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার স্ত্রী একজন বিসিএস কর্মকর্তা। দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি হাজরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভাইঘাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং টাঙ্গাইল কাগমারি এমএম আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
ছাত্র জীবনে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৭ সালে কর্মী, ১৯৮৯ সালে সাথী এবং ১৯৯৫ সালে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শিবির সভাপতি এবং ২০০০ সালে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এক সময় নির্বাচনের আগে গ্রেফতার হওয়া ও ছয় মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর তিনি মুক্তি পেয়ে চিকিৎসা শিক্ষায় ফিরে আসেন।
সরকারি চাকরিতে ১০ বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা ও শিক্ষাদান করেন। তার হাজারো শিক্ষার্থী এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশক ধরে তিনি ভাইঘাটে প্রতি শুক্রবার বাদ ফজর ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন। ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী, জামালপুর ও মুক্তাগাছা থেকে অসংখ্য রোগী নিয়মিত আসেন। চিকিৎসা ছাড়াও তিনি স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অবদানের জন্য সু-নজর রাখেন।
জানুয়ারির নির্বাচনী প্রচারে ডা. কাফি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। সাধারণ ভোটাররা তাকে একজন নির্ভরযোগ্য, মানবিক ও খোদাভীরু রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করছেন। চিকিৎসার মতো রাজনীতিতেও মানুষের জীবনকে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ করার জন্য তিনি দৃঢ়ভাবে কাজ করছেন।











