ঘাটাইল
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সেই উত্তাপের মাঝেই নতুন এক ইতিহাসের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার নিপা। হাঁস প্রতীক নিয়ে তার নির্বাচনী লড়াই এখন আর শুধু একটি ভোটের প্রতিযোগিতা নয়, এটি পরিণত হয়েছে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও নারীর ক্ষমতায়নের এক শক্ত বার্তায়।
ঘাটাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী এত দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনিন নাহার নিপা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, নেতৃত্ব কেবল দলীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না; মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই নেতৃত্বের আসল শক্তি। তার এই উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যেখানে নারী প্রার্থীদের এগিয়ে চলা বরাবরই কঠিন, সেখানে নিপা সব বাধা উপেক্ষা করে দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রচারণার মূল শক্তি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, উঠান বৈঠক কিংবা পথসভা—সবখানেই সাধারণ ভোটারদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আন্তরিক আচরণ তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। অনেক ভোটারই বলছেন, নিপা কোনো দূরের রাজনীতিক নন, তিনি তাদেরই একজন।
ভোটারদের মতে, নারী প্রার্থী হয়েও তিনি মাঠে নামতে পিছপা হননি। বরং দলীয় হেভিওয়েট পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্পষ্ট বক্তব্য, সাহসী অবস্থান ও নির্ভীক চলাফেরা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে তাকে ঘিরে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিপার বিজয় মানে নারীদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হওয়া।
আইনিন নাহার নিপা বারবারই বলে আসছেন, রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। জয়ী হলে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে নির্ভয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। দলীয় সংকীর্ণতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন মানুষের অধিকার থেকে তাকে দূরে সরাতে না পারে, সে কথাও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তার এই দায়বদ্ধতাই তাকে ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।
ভোটের প্রচারণায় ঘাটাইল এখন মুখর হলেও সেই ভিড়ের মধ্যেই নিপা আলাদা করে নজর কাড়ছেন তার শান্ত কিন্তু দৃঢ় উপস্থিতিতে। হাঁস প্রতীকটি অনেকের কাছে এখন পরিবর্তনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। চায়ের দোকান, কৃষকের মাঠ, তরুণদের আড্ডা কিংবা গৃহিণীদের আলোচনায় বারবারই উঠে আসছে তার নাম।
স্থানীয়দের মতে, নিপার বড় শক্তি তার সাহসী মনোভাব। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানেন, আবার সমাধানের পথও দেখান। এই গুণগুলো বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে। তারা বিশ্বাস করছে, রাজনীতি মানেই পুরোনো মুখ আর পুরোনো প্রতিশ্রুতি নয়; রাজনীতির ভাষা বদলানো সম্ভব।
স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হয়েও আইনিন নাহার নিপার এই উত্থান ঘাটাইলের রাজনীতিতে অনেক হিসাব পাল্টে দিচ্ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—ঘাটাইলের মানুষ শুধু একজন প্রার্থীকে নয়, একটি সাহসী বার্তাকেই সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। সেই বার্তার নাম আইনিন নাহার নিপা, যিনি প্রমাণ করতে চলেছেন সাহস আর মানুষের ভালোবাসা থাকলে ইতিহাস গড়া অসম্ভব নয়।










