খবরবাংলা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সফরে অবকাঠামো, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সমঝোতা ও চুক্তি হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে এই সম্পর্ক থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।
সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দলীয় পর্যায়ের সম্পর্ক চীনের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক কৌশলের অংশ।
শিক্ষা খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। দেশে পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শিক্ষা, বৃত্তি ও শিক্ষাবিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে বিভিন্ন দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নজরদারি ও বিতর্কও রয়েছে।
গণমাধ্যমেও চীনের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কনটেন্ট বিনিময়, সাংবাদিক বিনিময় এবং বিভিন্ন সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া কূটনীতির অংশ হলেও এর মাধ্যমে চীন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
অবকাঠামো খাতে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত শিল্পপার্ক এবং চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও রপ্তানিতে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে চীনা বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই সম্পর্ক যেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জাতীয় স্বার্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।











