খবর বাংলা ডেস্ক :
পকেটে থাকা ছেঁড়া, ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কমাতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ অক্ষত থাকলে গ্রাহক সেই নোটের পুরো মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাবেন। এতে ছেঁড়া নোট বদলানো এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেল।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে এই সেবা নিতে পারবেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সব ব্যাংক শাখাকেই ছেঁড়া বা ত্রুটিযুক্ত নোট বদলাতে বাধ্য করা হয়েছে। কোনো শাখা তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রাহক হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে অভিযোগ করতে পারবেন।
যদি কোনো নোটের ৯০ শতাংশের কম অংশ অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে দাবিযোগ্য নোট হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সরাসরি টাকা দেবে না। গ্রাহককে আবেদন জমা দিতে হবে এবং সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে বিনিময় মূল্য জানানো হবে।
একাধিক খণ্ডে বিভক্ত নোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। গ্রাহক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে মোট অংশের ৯০ শতাংশ বা তার বেশি উপস্থিত আছে, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে আগুনে পোড়া নোট সাধারণ ব্যাংক বদলাবে না; এ জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে হবে।
নোটের ব্যবহারযোগ্যতা অনুযায়ী এগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, যেমন পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া বা ত্রুটিযুক্ত, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। একই সঙ্গে জাল নোট বা ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও সতর্ক করা হয়েছে।
গ্রাহকদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নোট জমা দেওয়ার সময় অংশগুলো যেন স্পষ্টভাবে বোঝা যায় এবং নম্বর ঢাকা না পড়ে। দাবিযোগ্য নোট জমা দিলে ব্যাংক থেকে রিসিভ কপি সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না হয়।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ এখন হাতের কাছের ব্যাংক শাখা থেকেই ছেঁড়া টাকার ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে দালালচক্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ব্যাংকিং সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।











