নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করা ও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় ও জেলার সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার শীর্ষ পদধারী অন্তত ১০০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের (যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, মুক্তিযোদ্ধাদল) নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের পর থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নেয়া বা নিজ আসনের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির যারা বহিষ্কার হলেন –
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকায় ২১ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টাঙ্গাইল-১ (মধপুর-ধনবাড়ী) আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ ইকবালকে বহিষ্কার করেছেন।
২৬ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে আবদুল হালিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে ১৩ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্যপদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অন্য আসনে নয়, সদর আসনেই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে, আর কাজ করলে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার শর্ত ও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে জানিয়েছেন দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে তৌহিদুল ইসলাম বাবু জানান, আমি দলের বিপক্ষে কখনো যাইনি। তিনি ধানের শীষের পক্ষে জেলার অন্যান্য আসনগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলেও সদর আসনে অংশ না নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাদীউজ্জামান সোহেল, যুগ্ম-সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, টাঙ্গাইল শহরের ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরে আলম সাদেক ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান উত্তমকে, ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় টাঙ্গাইল শহরের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেকুল হক সেলিমকে, ৩১ জানুয়ারি শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সর্বশেষ বহিষ্কৃতরা হলেন –
সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি আরো চারজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন – ছিলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল ইসলাম বাহার, সদর উপজেলা বিএনপি’র গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুল করিম সোনা ও সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।
এই দিন আরো ১৯ জন ছাত্রদল নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় দলের আহবায়ক দূর্জয় হোড় শুভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন- ঘাটাইল পাকুটিয়া পাবলিক কলেজ ছাত্রদল শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি সৌরভ, সহ-সভাপতি জিহান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম পিয়াস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাসেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ। ১নং দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল শাখার সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সবুজ খান, সাদ্দাম সাকিব, সদস্য নাইম ও সজল। ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রদল শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আলামিন হোসেন ও মো. এমদাদুল হক রিপন। ১১ নং জামুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ান হাবিব। ৫ নং আনেহলা ইউনিয়ন ছাত্রদল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল সিকদার। ১২ নং সংগ্রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল শাখার সহ-সভাপতি তানভীর হাসান সজল, মো. সাইফুল আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জে. কে. সুমন। ৩ নং জামুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সহ-সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজ হোসেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি যা বলেন –
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিলো, তাদের কেন্দ্র ও জেলা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।











