টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ও সকালে টাঙ্গাইল-৫ (সদর), টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ও টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে দ্বিতীয় দিনে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১৯ জনের মনোনয়পত্র বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- টাঙ্গাইল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ফাতেমা রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বিএসপি) হাসরত খান ভাসানী, খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমীন এবং টাঙ্গাইল- ৬ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী জুয়েল সরকার, রিপন মিয়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মামুনুর রহিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফুল ইসলাম ও সাইফুর রহমান; টাঙ্গাইল-৭ আসনে ইসলামী আন্দোলনের এটিএম রেজাউল করিম আলরাজী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খান এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু তাহের; টাঙ্গাইল-৮ আসনে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, এসএম হাবিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান কামাল; আমজনতার দলের আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের শহীদুল ইসলাম।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৫ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ভিন্নভাবে হলফনামা জমা দেয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খন্দকার জাকির হোসেনের, দলীয় মনোনয়ন ও অঙ্গীকার নামা জমা না দেয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ফাতেমা রহমানের, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেনের, সর্বশেষ দাখিলকৃত রির্টানের প্রত্যায়িত কপি না দেয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বিএসপি) হাসরত খান ভাসানীর এবং সম্পত্তি বিবরণ ও দায়ের বিবরণের ফর্ম জমা না দেয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাসানাত আল আমীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
টাঙ্গাইল-৬ আসনে ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৫ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি’র বিদ্রোহী) জুয়েল সরকারের, বিএনপির প্রার্থীর সম্মতিপত্র না দেয়ায় রিপন মিয়ার, শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফুল ইসলাম, ঋণ খেলাপির কারণে সাইফুর রহমানের এবং ঋণ খেলাপির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মামুনুর রহিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
টাঙ্গাইল-৭ আসনে আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ঋণ খেলাপীর কারণে ইসলামী আন্দোলনের এটিএম রেজাউল করিম আলরাজী, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খান এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু তাহেরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
টাঙ্গাইল-৮ আসনে আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৬ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে হলফনামায় ভিন্ন স্বাক্ষর ও আয়কর রিটানের কপি না থাকায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদের, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায়
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, হাবিবুর রহমান কামাল ও এসএম হাবিবুর রহমানের, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় আমজনতার দলের আলমগীর হোসেনের, দাখিলকৃত মনোনয়পত্র ২০ ও ২১ নাম্বার ফরম জমা না দেয়ায় খেলাফত মজলিসের শহীদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার প্রথমদিনে টাঙ্গাইল- ১ থেকে টাঙ্গাইল ৪ আসন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে প্রার্থীরা কশিমনে আপিল করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় প্রার্থীরা কশিমনের আপিল করার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে ৮৬ জন মনোনয়ন পত্র কিনলেও জমা দেয় ৬৫ প্রার্থী।











