টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
তের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগীর চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি হওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে গাছের সঙ্গে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ওষুধ সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে।
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মাত্র ১৩টি শয্যা থাকলেও ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১০৯ জন এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত আরও ১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে সাধারণ ও পেইং মিলিয়ে মোট ২০টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত দুই দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন রোগী।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। ফলে সরাসরি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে ৪২টি শয্যার বিপরীতে ৬৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার ৩২ জন এবং মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বিছানা, ফ্লোর ও বারান্দা রোগীতে পরিপূর্ণ। এমনকি ওয়ার্ডের আঙিনায় ছোট গাছের সঙ্গে স্যালাইন ঝুলিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। স্যালাইন ও দু-একটি ট্যাবলেট ছাড়া বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
কালিহাতী থেকে আসা রোগীর স্বজন রকিবুল হাসান জানান, শিশুর ডায়রিয়া হওয়ায় প্রথমে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে কোনো শয্যা না পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে মাদুর এনে হাসপাতালের আঙিনায় বিছানা পেতে থাকতে বাধ্য হন। সেখানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং অন্যান্য ওষুধ বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলদুয়ার, বাসাইল ও সদর উপজেলার একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ অত্যধিক হওয়ায় সঠিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। চরম ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও দুর্গন্ধপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্যালাইন, সিরিঞ্জ, গজ-ব্যান্ডেজসহ ব্যবহৃত চিকিৎসা সামগ্রী হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাইরে রোগী রাখতে হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে বাইরে থাকা রোগীদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডও ব্যবহার করা হবে। ওষুধের ঘাটতি কমাতে নতুন করে ওষুধ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বুধবারের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ১৭৮টি পদের বিপরীতে মাত্র ৪৪ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় আক্রান্ত রোগীদের জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী থাকলেও তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ওষুধের কোনো সংকট নেই এবং স্টোরে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।











