টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠিত ও সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একদল নেতাকর্মী সমবেত হয়ে দলকে শক্তিশালী করার শপথ গ্রহণ করে এবং পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসময় তারা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানায়।
আরো জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির-এর নির্দেশনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার উত্তোলন করা হয়। এসময় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুরুজ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং গোপালপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অন্যন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকমীদের সংগঠিত করার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানোর সময় “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিচ্ছেন। ভিডিও ফুটেজে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে সকাল হওয়ার আগেই কার্যালয়ের সামনে টানানো ব্যানার ও জাতীয় পতাকা আবার সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে কার্যালয়টি পুনরায় তালাবদ্ধ রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামার সবুজ সংকেত পায়। আর তারাই এখন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় তাদের এই প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে এ ধরনের কার্যক্রমের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
প্রশাসনের বক্তব্য –
এবিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া গেলেও, দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে—ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।











