নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে ভিজিএফের চাল নিয়ে চালবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কার্ড থাকলেও চাল পাওয়া যাচ্ছে না, কোথায় কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে সেই চাল বেশি দামে ওই চক্রের কাছ থেকেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে চাল ক্রয় করতে হচ্ছে, কোথাওবা কার্ডধারীদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাল কিনে নিচ্ছে দালাল চক্র। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় একটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, পৌরসভার মেম্বার, চেয়ারম্যান বা প্রশাসক পর্যন্ত জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনায় কার্ডধারী উপকারভোগী নিম্নমধ্যবিত্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে ভিজিএফের কার্ড হাতে পেলেও চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অসহায় পরিবারগুলো। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রাকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা। গত সোমবার (১৬ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিকরাইল ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ওইদিন নির্ধারিত সময়ে চাল নিতে এসে বেশ কয়েকজন কার্ডধারী হতাশ হয়ে ফিরে যান। তাদের অভিযোগ, কার্ড থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানানো হয় চাল আগেই শেষ হয়ে গেছে।
অপরদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভায় থেকে সরকারি ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়, ৪ হাজার ৬২৫ কেজি অর্থাৎ ৪৬.২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পায় টাঙ্গাইল পৌরসভা। প্রতি ওয়ার্ডে ২ হাজার ৫৫০ কেজি অর্থাৎ ২.২৬ মেট্রিক টন। বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও সেই চাল কিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে, এই প্রশ্ন জনমনে?
উপকারভোগীদের ক্ষোভ –
এবিষয়ে স্থানীয় ভূক্তভোগী জলিল, আলতাফ ও আলমগীর বলেন, আমাদের হাতে সরকারি কার্ড রয়েছে। নির্ধারিত সময়েই চাল নিতে এসেছি, কিন্তু আমাদের বলা হয়েছে চাল শেষ। তাহলে আমাদের জন্য বরাদ্দ চাল কোথায় গেল? তাদের দাবি, নির্ধারিত কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার চাল ক্রয়কারী এক মহিলা নামপ্রকাশ না করার ক্ষেত্রে জানান, এই চাল আমি ৩০ টাকা কেজি কিনেছি। আমি মাঝেমধ্যেই পৌরসভার লোকদের কাছ থেকে এই চাল কিনি। এর চাইতে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য –
এবিষয়ে নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম ফকির দীলিপের বিরুদ্ধে ১০ কেজির জায়গায় সাড়ে ৮ কেজি চাল বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম ফকির দীলিপ অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভূয়া ও মিথ্যা।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভায় ভিজিএফ এর চাল কিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে সে বিষয়ে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











