নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের আলোচিত সাবেক ইউপি সদস্য সুরমান রেজা (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য তিন সপ্তাহেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর দিনে দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে সাবেক ইউপি সদস্যকে জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মহাসড়কের পাশে হত্যাকাণ্ড হওয়ায় দ্রুত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ছয়টা ২১ মিনিটে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে তৈরি করা Police & Media Tangail হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রদান করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে টাঙ্গাইল সদরের এনায়েতপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে ঠিকাদারি কাজের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন সুরমান রেজা। ওই দিনই দুপুর আনুমানিক ২:৩০টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন এলাকাস্থ গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছোট মনিরের পরিত্যক্ত পেট্রোল পাম্পে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত সুরমান রেজার বাবা মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অপারেশন করেন যারা –
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আদিবুল ইসলাম ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে তদন্তে নামে পুলিশ। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি (উত্তর)-এর ওসি এ. বি. এম. এস. দোহার সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ডিএমপি ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন (৬৩) নামে একজনকে এবং টাঙ্গাইল সদরের আদি টাঙ্গাইল এলাকা থেকে মো. বাবলু মিয়া (৪২) ও মোঃ সাদ্দাম ও সীদাম সূত্রধর ও আর জে তমালকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা এলাকা থেকে মো. আল আমিন খান (৩২) নামে অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর –
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. বাবলু মিয়া ও সাদ্দাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সমালোচনা-
প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর প্রথম সারির নিউজ চ্যানেলের কয়েকজন প্রতিনিধি এই বিষয়ে কথা বলেন। চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং না করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়ার সমালোচনা করেন। এছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রহস্য উদঘাটনের দাবি করা হলেও- কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে; সে বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ না থাকায় নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কি উঠে এসেছে, সে বিষয়েও কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।










