টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শাড়ির বুনন শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ইউনেস্কো। চলতি বছর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা মানুষের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য এই শিল্পকে মনোনীত করেছে। এমন খবরে জেলার তাঁতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
এ আবেদনের পক্ষে কাজ করেছেন দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল তাঁত উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীল কমল বসাক। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের চার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বুনন শিল্পের স্বীকৃতি তাঁদের পূর্বপুরুষের শ্রমের মর্যাদা বহন করে। তাদের বিশ্বাস, টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি ইউনেস্কোর ঐতিহ্য তালিকায় জায়গা করে নেবে।
ইউনেস্কোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়ি ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং স্থানীয় সংস্কৃতির নকশায় তৈরি। পুরুষরা সূতা রাঙানো ও বুননের কাজ করেন, আর নারীরা চরকায় সুতা কাটেন। এই শিল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হলো নান্দনিক নকশা, স্থানীয় মোটিফ এবং শাড়ির স্বচ্ছ মসৃণতা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি শুধু এক ধরনের পণ্য নয়; বরং একই বুনন কৌশলে তৈরি সব পরিধেয়কেই এই নামে চিহ্নিত করা হয়। সুতি, সিল্ক বা পাট—যে ধরনের সুতা দিয়েই তৈরি হোক, বুনন কৌশল একই থাকে। এই শিল্প প্রধানত বসাক ও জোলা সম্প্রদায়ের তাঁতিরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধরে রেখেছেন।
ইউনেস্কোর মতে, বুনন কৌশল কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়; পরিবারের সদস্যদের দেখে হাতে-কলমে শেখা হয়। তাই প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পরিবারই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়েরও প্রতীক। দুর্গাপূজা, বাংলা নববর্ষ, বিবাহ এবং দুই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এটি জনপ্রিয় পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জাতিসংঘের এই স্বীকৃতির খবর পেয়ে জেলার তাঁতিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। টাঙ্গাইলের পাথরাইল, চন্ডি, করটিয়া, বাজিতপুর, তারুটিয়া, ছাতিহাটি ও বল্লাসহ বিভিন্ন গ্রাম বহু বছর ধরে তাঁত শাড়ির প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরিফা হক জানান, ইউনেস্কোর তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য টাঙ্গাইল শাড়ি এখন শুধুই মনোনয়ন পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি দ্রুতই চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।











