টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনার ১৭ মাস পর টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৪৪ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ভানুয়াবহ উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন মিয়া (৩২) বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিকদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলাটি আমলে নিয়ে দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খাঁন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, অপসারিত উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহরিম হোসেন সীমান্ত, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামসহ মোট ৪৪ জন।
এ ছাড়া গোড়াই ও লতিফপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং শ্রমিক লীগের একাধিক নেতা-কর্মীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সোহাগপাড়া এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আসামিরা মিছিলে বাধা দেন। এ সময় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হত্যাচেষ্টা এবং দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে অর্থ যোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিদের বক্তব্য গোড়াই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আদিল খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার অনেক পরে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ মানুষদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করছে।
সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, আদালতের মাধ্যমে মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নথিপত্র হাতে পেলে তিনি আইনি পথে বিষয়টি মোকাবেলা করবেন। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বাদী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নন, বরং তিনি শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশের বক্তব্য
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলার এজাহারের কপি এখনও থানায় পৌঁছায়নি।











